728 x 90
728 x 90
728 x 90
Advertisement
create a new WordPress Website

হোসেনি দালানে মানুষের ভিড়, তাজিয়া মিছিল বন্ধ

হোসেনি দালানে মানুষের ভিড়, তাজিয়া মিছিল বন্ধ

হোসেনি দালানে মানুষের ভিড়

সকাল থেকেই পুরান ঢাকার হোসেনি দালান প্রাঙ্গণে হাজারো নারী-পুরুষ ও শিশুদের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠে। শুধু মুসলিম নয়, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদেরও অনেকেই ছুটে আসেন। লাল-কালো আর সবুজের সমারোহে নানা অক্ষর-খোচিত নিশান হাতে তারা খালি পায়ে মিছিল বের করেন। ‘হায় হোসেন হায় হোসেন’ ধ্বনিতে প্রকম্পিত হয় হোসেনি দালান প্রাঙ্গণ।

করোনাকালে স্বাস্থ্যবিধি রক্ষা ও যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে হোসেনি দালান প্রাঙ্গণে ও বাইরে র‌্যাব, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থান নেন। মূল প্রাঙ্গণে প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য আলাদা পথের ব্যবস্থা করা হয়।

আর্চওয়ের ভেতর দিয়ে সবাইকে ঢুকতে হচ্ছে। প্রবেশ পথে স্বেচ্ছাসেবীদের মাস্ক হাতে দাঁড়িয়ে সতর্ক নজরদারি করতে দেখা যায়। যারা মাস্ক ছাড়া আসেন তাদের হাতে মাস্ক দিয়ে পরিধান করে ভেতরে প্রবেশ করার অনুরোধ জানাতে দেখা যায়। অন্যান্য বছরগুলোতে হোসনি দালান থেকে তাজিয়া মিছিল রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করলেও গত বছরের মতো এ বছরও হোসনি দালান প্রাঙ্গণেই সংক্ষিপ্ত পরিসরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শোকের মিছিল বের হয়।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভেতরে প্রবেশ করে দেখা যায় শোকের প্রতীক কালো জামা পরিধান করে কেউ দোয়া করছেন, কেউ মানত হিসেবে আনা নগদ টাকা ও জিনিসপত্র বিলিয়ে দিচ্ছেন, কেউ ঘোড়ার পা দুধ দিয়ে ধুইয়ে দিচ্ছেন। মুসলিমদের পাশাপাশি অসংখ্য হিন্দু পরিবারের সদস্যদেরও হোসেনি দালানে বিভিন্ন মানত দিতে ও ঘুরতে দেখা গেছে।

হাজারিবাগের বাসিন্দা পবন দাস স্ত্রী ও দেড় মাস বয়সী শিশুকে কোলে নিয়ে এসেছেন। এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বী হলেও প্রতি বছরই হোসনি দালানে আসেন। বিভিন্ন মানত ও দোয়া কবুলের জন্য এখানে ঘুরে যান।সেগুন বাগিচার বাসিন্দা মালতি রায় বলেন, তিনিও স্বামীর সঙ্গে ঘুরতে এসেছেন। মনোবাসনা পূরণের জন্য মানত করেছিলেন, সে মনোবাসনা পূরণ হওয়ায় এসেছেন।

ডেমরা কোনাপাড়া এলাকার বাসিন্দা ৭০ বছরের বৃদ্ধ রহমত আলী বলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি দাদা-বাবা, পরবর্তীতে স্ত্রী, পুত্র কন্যা নিয়ে আশুরার দিনে হোসনি দালানে আসেন। এখানে এসে দাঁড়ালেই মনে শান্তি লাগে বলে জানান।

ঢাকায় এক সময় তাজিয়া মিছিলে ছোরা, কাঁচি, বর্শা, বল্লম, তরবারি, লাঠি হাতে যুবকদের দেখা যেত। ইমাম হোসেনের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের স্মরণে তারা শরীরে আঘাত করে নিজেদের রক্তাক্ত করতেন। কিন্তু ২০১৫ সালে তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতির মধ্যে হোসনি দালানে জঙ্গি হামলার পর থেকে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশ তাজিয়া মিছিলে ধারালো অস্ত্র বহন নিষিদ্ধ করে।

এই দিনে প্রতি বছর হোসনি দালান থেকে বের হতো আশুরার প্রধান তাজিয়া মিছিল। রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ঘুরে ধানমন্ডিতে প্রতীকী ‘কারবালা’ প্রাঙ্গণে তা শেষ হত। কিন্তু মহামারির কারণে গণজমায়েত নিষিদ্ধ থাকায় গত বছর খোলা স্থানে তাজিয়া মিছিল ও সমাবেশ না করে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে ঘরোয়াভাবে আশুরার আনুষ্ঠানিকতা সারতে বলেছিল ঢাকা মহানগর পুলিশ। এবারও একই নিয়মে হচ্ছে।

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos

ক্যালেন্ডার

September 2021
F S S M T W T
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930