728 x 90
728 x 90
728 x 90
Advertisement
create a new WordPress Website

আমার আছে গর্বের ইতিহাস

আমার আছে গর্বের ইতিহাস

আমার আছে গর্বের ইতিহাস

আমার আছে গর্বের ইতিহাস এক নতুন সকাল/যে সকাল ভরা অনিন্দ্য আলোয়/ যে সকাল আগুনের পরশমণি হয়ে ঘুচিয়ে দেয় মনের দীনতা,/প্রাণের স্ফুরণ রূপ নেয় অনন্য প্রার্থনায়-/ পহেলা বৈশাখ/বাঙালির জন্মদিন/বাংলার আকাশে-বাতাসে ভাসে আগমনীর তাপস নিঃশ্বাস/ বাঙালির ঘরে ঘরে চলছে এক আলোকোজ্জ্বল সূর্যকে বরণের প্রস্তুতি।

নববর্ষে বাঙালির মনে পুরোনো সব মলিনতা, গ্লানি, যাতনা, দৈনতা আর কলুষতাকে ধুয়ে-মুছে নতুনকে আবাহনের প্রত্যয় থাকে। কিন্তু এ বছর লিখতে বসে যতবারই ভাবছি নতুন বছর মানেই পুরোনোকে ঝেড়ে ফেলে এগিয়ে যাওয়া ততবারই এ লেখা রুদ্ধ হচ্ছে… হারিয়ে যাচ্ছে কথামালা। মনে হচ্ছে পুরোনোকে ধুয়ে-মুছে পরিস্কার করতে গিয়ে আমরা কি আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্যকে বিস্মরণে রাখতে চাইছি? অ

করছি শিকড়ের টান, দেশপ্রেমে আসছে বৈপরীত্য, ভূলুণ্ঠিত হচ্ছে জাতীয়তাবাদী চেতনা, মুক্তির স্বপ্ন সর্বোপরি আপন অস্তিত্ব! মন বিদ্রোহ করে ওঠে। না কিছুতেই পুরোনোকে অস্বীকার করে বর্ষবরণে বলতে পারব না ‘যাক পুরাতন স্মৃতি, যাক ভুলে যাওয়া গীতি’, বরং সেই পুরোনোকে, ঐতিহ্যকে কণ্ঠে ধারণ করে এবারের বর্ষবরণ শুরু করতে চাই ‘ফিরে চল মাটির টানে… মুক্ত করো ভয়’-এ উদ্বেলিত উচ্চারণে আর প্রদীপ্ত কণ্ঠে বলতে চাই ‘দৃঢ় সত্যের দিতে হবে খাঁটি দাম, হে স্বদেশ ফের সেই কথা জানলাম’। মানুষের বিশ্বাস, আচার-আচরণ আর জ্ঞানের সমন্বিত রূপ তার সংস্কৃতি। সংস্কৃতিচর্চার মধ্য দিয়ে মানুষ সুরুচির বিদগ্ধজন হিসেবে নিজের পরিচয় তৈরি করে। সংস্কৃতির ক্যানভাসটা বিশাল। বাঙালির আবাসভূমি আর বাংলা ভাষাভাষী মানুষের উদ্ভব ও বিকাশ, গৌরব ও লজ্জা, শক্তি ও দুর্বলতা, আনন্দ ও যন্ত্রণা, প্রীতি ও ঘৃণা, দ্বন্দ্ব ও মিলন, আশা ও নৈরাশ্য, আত্মগ্লানি ও আত্মপ্রত্যয়, আদর্শবাদ ও নীতিহীনতা, সুকৃতি ও দুস্কৃতি, সংগ্রাম ও পরবশ্যতা প্রভৃতির ইতিকথাই স্বদেশ ও স্বজাতির অন্তরঙ্গ পরিচয়ের তথা স্বরূপের অভিজ্ঞান। দুর্ভাগ্য, প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে আমরা বিদেশি-বিভাষী-বিজাতি শাসিত। কাজেই বাঙালির ইতিহাস আজও অনাবিস্কৃত ও অলিখিত। বাংলার যে বিচ্ছিন্ন ও বিভিন্ন বিবর্ণ তথ্য ইতিহাস হিসেবে স্বীকৃত তাতে বাঙালি তার স্বরূপে অনুপস্থিত। বস্তুত বাঙালির ইতিহাস লোকধর্মের, লোকায়ত দর্শনের, লোকসাহিত্যের, লোকশিল্পের, লোকসংগীতের ও লোকবিশ্বাসের-সংস্কারের ইতিকথারই অন্য নাম। বাঙালির ইতিহাস বিদ্রোহ আর ঔচিত্যবোধের ইতিহাস। তার আত্মাহুতি আর আত্মানুসন্ধানের ইতিহাস, আড়াই হাজার বছরের যাপিত জীবনের ইতিহাস। যে ইতিহাসে আছে আর্য-অনার্য দ্বৈরথ, আছে কৈবত বিদ্রোহের ইতিহাস যে বিদ্রোহের ফলে বাঙালি পেয়েছিল জনগণের মতামতের ভিত্তিতে প্রথম শাসন। বাঙালির ইতিহাস তার বারো মাসে তের পার্বণ উদযাপনের ইতিহাস। যদিও এ জাতির জীবন প্রাচুর্যে ভরপুর ছিল তা বলা যাবে না। বরং কঠিন জীবন সংগ্রামে লিপ্ত বাংলার অধিকাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচেই বসবাস করত, আজও করে। এমন কঠিন জীবনের শ্বাসরুদ্ধকর চাপ থেকে মুক্তি পেতে, শত অভাব-অনটনের মধ্যেও বাঙালি অধীর আগ্রহে প্রতীক্ষা করে থাকে একটা পার্বণের জন্য। জীবনের কঠিনতম সংগ্রামের বিপরীতে আনন্দ উৎসবকে বিলাসিতা মনে হলেও সমস্যাক্লিষ্ট জীবনের কথা ভুলে হাস্যোজ্জ্বল হয়ে ওঠার পার্বণগুলোতে বাঙালি তাই আগামীর প্রাণশক্তি সঞ্চয়ে নিজেদের উজাড় করে দিয়েছে। একেকটা উৎসব যেন গ্রীষ্ফ্মের খরতাপদহের পর সুশীতল বারিধারার ন্যায় বাঙালির সংগ্রামী জীবনকে স্নিগ্ধ ও সজীব করে দিয়েছে। যদিও বর্তমানে আমাদের দেশে অনেক ক্ষেত্রে উৎসব বলতে ধর্মীয় উৎসবই প্রাধান্য পেয়ে এসেছে কিন্তু আজও বাঙালি মুক্তির আনন্দ খোঁজে তার সর্বজনীন সামাজিক উৎসব আর পার্বণগুলোতে। উৎসবপ্রিয় বাঙালির প্রাত্যহিক আয়োজনে নতুনত্ব দেওয়ার প্রয়োজনেই অনিবার্যতা পেয়েছে পটচিত্র, পোড়ামাটির ফলক, হাঁড়ি, পুতুল, মাটি-কাসা-পিতলের আসবাব, আল্পনা, পালকি, ডুলি, আলতাবড়ি প্রভৃতি। পোশাকে সৃষ্টি হয়েছে নব ধ্যান-ধারণা। এসেছে খড়ম, মাথাল, নকশিকাঁথা, সুতি, মুসলিন, জামদানি। জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে এসেছে ঢেঁকি, পালের নৌকা, গরুগাড়ি, শিকা, ধানের গোলা, খেজুর পাতার পাটি। উদযাপনের অনুষঙ্গ হিসেবে এসেছে কাবাডি, হাডুডু, নৌকাবাইচ, দাঁড়িয়াবান্ধা, ডাংগুলি, এক্কাদোক্কা, কানামাছি, মোরগ লড়াই, ষাঁড়ের লড়াই, লাঠিখেলা, ঘোড়দৌড়, গাজনের মেলা, পৌষপার্বণের মেলা, নবান্ন আরও কত কি। বাঙালির ইতিহাস তার লোকসংস্কৃতি আর লোকসাহিত্যের ইতিহাস। চর্যাপদ, গীতগোবিন্দ, মঙ্গলকাব্য, শ্রীকৃষ্ণ কীর্তন, খনার বচন, লোককাহিনি, ব্রতকথা, পাঁচালী, প্রবাদ-প্রবচন, গীতিকা, রূপকথা, পৌরাণিক কাহিনি, পুঁথি যুগ যুগ ধরে বাংলার জনজীবনের সঙ্গে মিশে আছে। আর বাংলার মানুষের কান্না-হাসি, আনন্দ-বেদনার সব অনুভূতিরই মূর্ত প্রকাশ ঘটেছে তার লোকগানে। সেখানেও কত আঙ্গিক, কত দর্শন। আছে জারি, সারি, ভাটিয়ালি, ভাওয়াইয়া, মহুয়া, মলুয়া, আলকাপ, মাঙ্গনের গান, গম্ভীরা, লেটো, যাত্রা, পুতুল নাচ, কবি গান, পালা গান, বাউল গান, ধামাইল, বারোমাসি, ঝুমুর, মারফতি, মুর্শিদি, হোলি, গাজনের গান, জাগগানসহ আরও কত নাম। আছে লুইপা, কানহুপা, বড়ুচণ্ডীদাস, মুকুন্দদাস, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, জীবনানন্দ, সুকান্ত, লালন, জসিম উদ্‌দীন, রাধারমণ, এমনি শত সহস্র নাম। আমাদের আছে ঋতুভিত্তিক দিনপঞ্জি। সবচেয়ে বড় কথা আড়াই হাজার বছর ধরে বয়ে চলা লোকসংস্কৃতির ধারায় আমরা বহন করছি সর্বতভাবে অসাম্প্রদায়িক, মানবতাবোধে উদ্বুদ্ধ আর সার্বজনীন আধ্যাত্মবাদে বিকশিত ঐতিহ্য। এত যে সমৃদ্ধ বাংলা আর বাঙালির ঐতিহ্য, বর্তমান উত্তর-আধুনিক সময়ে আমরা যেন যে সে শিকড়, সে মাটির টান থেকে যোজন যোজন দূরে। হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের লোক খেলা, লোকায়ত দর্শন, লোকসংস্কৃতির অনুষঙ্গ এমনকি লোকসংগীত পর্যন্ত। শেকড়হীন, ঐতিহ্যহীন ভোগবাদের প্রবল টান আমাদের পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন করছে। মৌলবাদ আর সাম্প্রদায়িকতাকে করছে শক্তিশালী। বৈষম্য বাড়ছে স্বজাতির মধ্যে। আমরা ভুলে গেছি আপন সংস্কৃতির বলয়ে থেকে সংস্কৃতিমান হতে না পারলে বিশ্বসংস্কৃতির মানবিক, সৃষ্টিশীল, মুক্তিপাগল অংশে অবগাহন করা যায় না।

be573089b572cb4cdf707379b8ed23a0?s=100&d=mm&r=g
HadisurRahman
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos

ক্যালেন্ডার

June 2021
F S S M T W T
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
252627282930