728 x 90
728 x 90
728 x 90
Advertisement
create a new WordPress Website

বগুড়ার শাজাহানপুরে বানিজ্যিক ভাবে চাষ হচ্ছে জার্বেরা ফুল

বগুড়ার শাজাহানপুরে বানিজ্যিক ভাবে চাষ হচ্ছে জার্বেরা ফুল

বানিজ্যিক ভাবে চাষ হচ্ছে জার্বেরা ফুল কিন্তু লকডাউন যেন তাদের থমকে দিয়েছে। ছবিঃ জুয়েল হাসান

আজাদুর রহমানঃ বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার নয়মাইল এলাকায় (ঢাকা টু রংপুর রোড) বানিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে জার্বেরা ফুল। কৃষান ফার্টিলাইজার লিঃ নামক একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এই ফুলের চাষ করছেন। সংস্থার উদ্দেশ্য শাজাহানপুর কৃষকদের মধ্যে এই ফুল চাষ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি এবং চাষে আগ্রহী করে তুলে কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা। এই ফুলে চাষ ব্যয়বহুল হলেও লাভও কম নয়। বিঘাপ্রতি পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার কন্দ রোপণ করতে হয় আর এই কন্দগুলো অনেকটা আদার মতো দেখতে। একটি কন্দের দাম গড়ে ৪৫ টাকা। আর একটি কন্দ থেকে সাত থেকে আটটি শাখা বের হয়। একবার চাষ করলে চার বৎসর একই গাছ ফুল দিতে থাকে। একটি গাছের ঝাড় হতে প্রতি বছর গড়ে ৪০টি অধিক ফুল পাওয়া যায় এবং বাজারে এক একটি ফুলের দাম ৮-১০ টাকা। এক বিঘা জমিতে সার, কীটনাশক, বীজ ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে দশ লক্ষ টাকা খরচ হয় বলে তিনি। সংস্থার দায়িত্বরত কর্মচারী বলেন, পাঁচ থেকে ছয়টি চাষ দিয়ে মাটি টুকরো করে বেড তৈরি করতে হয়। প্রতিটি পরিমাণ মতো বালি এবং ছাই ছিটিয়ে দেয়ার পর সত্তর থেকে আশি বস্তা নারকেলের গুঁড়া ছোবড়া মাটির সঙ্গে মিশ্রণ করতে হয়। তিনি বলেন, ছোবড়া মাটিতে মিশ্রণ করলে ফুলের গাছের শেখর দ্রæত চারদিকে ছড়িয়ে যেতে পারে। ফলে গাছ সুন্দর, স্বাস্থ্যবান হয় এবং প্রতিনিয়ত ফুল দিতে থাকে। তিনি বলেন, বিঘাপ্রতি পঞ্চাশ কেজি হাড়ের গুড়া, দুইশ’ কেজি কেঁচো সার, পঞ্চাশ কেজি টিএসপি সার, এমওপি পঞ্চাশ কেজি এবং রোবন ও দন্তা দুই কেজি করে প্রয়োগ করতে হবে। কন্দ রোপণের দশ থেকে বার দিন পূর্বে সকল প্রকার সার দিয়ে জমি তৈরি করে রেখে দিতে হবে বলে তিনি পরামর্শ প্রদান করেন। ফলে ফুলের গাছের কোনো ক্ষতি হয়না বলে তিনি জানান। প্রতিমাসে একবার কিংবা প্রয়োজনে দুইবার দুই বস্তা কেঁচো সার, পনের কেজি হাড়ের গুঁড়া ও পঁচিশ কেজি ডিএপি সার প্রয়োগ করতে হবে এছাড়াও প্রয়োজনে ইউরিয়া সার ও পাঁচ থেকে সাত কেজি পটাশ সার দেয়া যেতে পারে বলে তিনি জানান। এছাড়াও সামান্য ইউরিয়া ও পটাশ সার দিয়ে পনের কেজি সরিষার খৈল ভিজিয়ে পচিয়ে সারিতে প্রয়োগ করলে ভালো ফল পাওয়া যায় বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, সপ্তাহে একবার করে সেচ প্রয়োগ করতে হবে। সেচের পানি যেন জমিতে আকটে থাকেত না পারে তার প্রতি খেয়াল রাখার জন্য তিনি পরামর্শ প্রদান করেন। সেইসাথে গাছ যেন অতিবৃষ্টি ও অতি খরায় নষ্ট হতে না পারে তার জন্য গাছের উপরে সেড তৈরি করে দিতে হবে তিনি জানান। তিনি বলেন, সেডের কারণে ফুলের রং কোনোভাবেই বিকৃত হয় না। বাঁশ কিংবা সিমেন্টের খুঁটি ও মোটা পলিথিন বা ঘন নেট দিয়ে এই সেড তৈরি করা যায় বলে তিনি জানান। এই ফুলের রোগ-বালাই তেমন হয় না তবে কিছু ছত্রাক আক্রমণ করে থাকে। এই ফুলের বড় সমস্যা হচ্ছে মাইডস পোকা, যা কচিপাতা চুষে নেয় ফলে পাতা কুঁকড়ে যায়। বাজারে প্রচলিত ছত্রাক নাশক দশ দিন পর পর জমিতে স্প্রে করতে হবে বলে তিনি জানান। সেইসাথে কীটনাশক বছরে দশ থেকে বারবার স্প্রে করতে হয় । এতে ফুল বড় হয় বলে তিনি জানান। এই ফুলের গাছ বেশি পানি ও শুষ্ক সহ্য করতে পারে না বিধায় সবসময়ে হালকা করে ভিজিয়ে রাখতে হবে বলে । জার্বেরা ফুল বিশ্বে ত্রিশ রকমের হলেও বাংলাদেশে মাত্র পাঁচটি জাতের ফুলের চাষ হচ্ছে বলে। কিন্তু লকডাউনে সকল কর্মসূচী বন্ধ থাকায় ফুলের চাহিদা কমেছে। ছোটখাটো কোন অর্ডার পেলে সেখানে ডেলিভারী করছি। তবে প্রতিটি ফুল ৫-৬ টাকা আবার গড়ে প্রতিদিন ২০০-৩০০ টি ফুল উঠছে। যেখানে আগে ৫০০-৬০০ টি ফুল উঠতো। ৪ জন শ্রমিক বাৎসরিক ভাবে নিয়মিত ফুলের পরিচর্যা করেন এই সংস্থায়।

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos

ক্যালেন্ডার

September 2021
F S S M T W T
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930