728 x 90
728 x 90
728 x 90
Advertisement
create a new WordPress Website

কাজিপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সরকারি বরাদ্দ বাস্তবায়নে অনিয়ম – দেখার কেউ নেই

কাজিপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সরকারি বরাদ্দ বাস্তবায়নে অনিয়ম – দেখার কেউ নেই

কাজিপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সরকারি বরাদ্দ বাস্তবায়নে অনিয়ম – দেখার কেউ নেই

 আব্দুল মজিদ(কাজিপুর থেকে)

সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সমূহে প্রচলিত নিয়মকানুন অমান্য করে সরকারি বিভিন্ন বরাদ্দের টাকা স্লীপ কমিটির মাধ্যমে বাস্তবায়ন না করে উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের চাপিয়ে দেয়া (উদর পিন্ডি বুদোর ঘাড়ে) সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে গিয়ে সরকারি অর্থের অপচয় হচ্ছে,এতে করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারি সহ সংশ্লিষ্ট ঠীকাদারগণ লাভবান হলেও স্কুলের সমস্যা সমূহের আশু সমাধান মিলছে না।

কাজিপুর প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে, বিদ্যালয় সমূহে আধুনিক শিক্ষা বাস্তবায়নে উপজেলায় প্রতি বছর স্লীপ রুটিন মেরামত, প্রাক প্রাথমিক ও ক্ষুদ্র মেরামতের জন্য সরকারি বরাদ্দ পাওয়া যায়। এর মধ্যে স্লীপ বাবদ বরাদ্দের অর্থ ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা অনুযায়ী,৫০ থেকে ৭৫ হাজার,রুটিন মেরামত ৪০ হাজার, ও প্রাক প্রাথমিক ১০ হাজার করে টাকা বরাদ্দ হয়। প্রতিবছর প্রাক প্রাথমিকে ১০ হাজার ও স্লীপ বাবদ ৫০ হাজার সকল প্রতিষ্ঠানে সমভাবে বরাদ্দ হয়। এদিকে অভিযোগ রয়েছে, কাজিপুরে ২৩৭ টি বিদ্যালয়ের অধিকাংশই শিক্ষার্থী কম থাকার অযুহাতে বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকদের নানাবিধ চাপে রেখে স্থানীয় প্রাথমিক শিক্ষা অফিস স্কুল পরিচালনা কমিটিকে পাশ কাটিয়ে নিজেদের মত করে শিক্ষা উপকরণ ক্রয়ে প্রতিষ্ঠান গুলোকে বাধ্য করছেন। শুধু তাই নয় এক্ষেত্রে শিক্ষা অফিস নিজেদের পছন্দের ঠীকাদার নিয়োগ করেছেন।

এছাড়া অজ্ঞাত ক্ষমতা বলে ২জন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও একজন নৈশ প্রহরীকে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় থেকে ডেপুটেশনে এনে প্রায় ১ যুগ ধরে উপজেলা শিক্ষা অফিসে রেখেছেন, অভিযোগ আছে, তাদের দিয়ে বিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশী সরকারি বরাদ্দ প্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে তাদেরকে অবৈধ অর্থ আদায়ের হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করছেন। এমনকি নৈশ প্রহরী অফিসের কাজের ফাঁকে ঠীকাদারিও করে থাকেন বলে জানা গেছে। সরকারি বিধি মোতাবেক সরকারি বরাদ্দের প্রতিটি কাজ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি কর্তৃক বাস্তবায়ন করার নিয়ম থাকলেও কাজিপুরে সেই নিয়ম মানা হচ্ছে না। কাচিহারা সরকারি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম জানান,প্রাক প্রাথমিকে ঠীকাদারের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর ১টি মুরাল,১ টি হোয়াইট বোর্ড,১ টি রাসেল কর্ণার,মোট ১৩ হাজার টাকা,এবং জাতীয় ৪ নেতার ছবি,ও,শিশু রাসেল কে নিয়ে লেখা ১৭ টি বই ৪ হাজার টাকায় ক্রয়ে বাধ্য করা হচ্ছে। শিক্ষকদের অভিযোগ জাতীয় ৪ নেতার ওই ছবি,ও শিশু রাসেল কে নিয়ে লেখা বই নির্ধারিত অর্থের কমে ভালো মানের পাওয়া যেত । উত্তর নাটুয়ারপাড়া স্কুলের প্রধান শিক্ষক বাবু জানান শিশু রাসেল নিয়ে ২৫ টি বই ঢাকা থেকে তিনি ২ হাজার টাকায় কিনেছেন অথচ কাজিপুরে জুয়েল নামের এক ব্যাক্তির থেকে ১৭ টি বই দুই হাজার টাকা ক্রয়ে বাধ্য করা হচ্ছে। এছাড়া ক্ষুদ্র মেরামতের জন্য শান্তাএন্টার প্রাইজ নামের একজন ঠীকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ করায় একদিকে যেমন বিদ্যালয় গুলোর কাজে বিলম্ব হচ্ছে,পাশাপাশী মানসম্মত হচ্ছেনা বলে অভিযোগ উঠেছে। সূত্র মতে এই ক্রয়ের মধ্যে টিও এটিও সহ সংশ্লিষ্টদের লাভের বিষয় জ্বড়িয়ে আছে।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে প্রায় শিক্ষকের একই অভিযোগ রয়েছে শিক্ষকগণ এর প্রতিবাদ কেন করছেন না এমন প্রশ্নের উত্তরে জলে বাস করে কুমিরের সাথে লড়াই করার সাথে তলুনা করছেন। অভিযোগ ক্ষুদ্র মেরামতের এস্টিমেট তৈরি করতে স্থানীয় এল জি ইডি অফিস প্রথমে ২ হাজার করে পরে কাজ না দেখেই প্রত্যায়ন দেয়ার মাধ্যমে আরও ৫ হাজার করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। গত ২০২০ _ ২০২১ অর্থবছরে শিক্ষক হাজিরা মেশীন ক্রয়ে ৩১ লক্ষ টাকা ব্যয় করেও হাজিরা মেশীন ক্রয় হলেও একদিনের জন্য মেশীনগুলো ব্যবহার হয়নি, সবগুলো মেশীন অচল অবস্থায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পড়ে রয়েছে।এছাড়া সরকারি বরাদ্দের অর্থ ছাড় করতে শিক্ষকদের বরাদ্দপ্রতি ৪/৫ বার করে উপজেলা শিক্ষা অফিসে যাতায়াত করতে হয় এতে করে হয়রানী সহ স্কুল বাদ রেখে উপজেলা অফিসে অর্থছাড়ের জন্য দৌড়-ঝাপের কারণে শিক্ষার্থীদের পাঠ দান ব্যহত হয় ‘কেননা প্রধান শিক্ষক না থাকলে প্রতিষ্ঠান অরক্ষিত হয়ে পড়ে। অভিযোগ আছে বিভিন্ন বরাদ্দের বিপরীতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (টিও) সহকারী শিক্ষা অফিসার (এ টি ও ) বড় বাবু, ছোট বাবুু হিসাব সংরক্ষণ অফিস সহ সংশ্লিষ্টরা অবৈধ অর্থ নিয়ে থাকেন ।

এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা অবৈধ অর্থ নেয়ার বিষয়টি সুকৌশলে অস্বীকার করে,অন্যান্য বিষয়ে আগামিতে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেন।

ভুক্তভোগি শিক্ষক মন্ডলিরা বিষয়টি বিভাগীয় পর্যায়ে তদন্ত সহ সিরাজগঞ্জ (১) কাজিপুর আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী তানভীর শাকিল জয় মহদয়ের হস্থক্ষেপ কামনা করেছেন।

এই নিউজটি শেয়ার করুন। 

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos

ক্যালেন্ডার

September 2022
F S S M T W T
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
30  

এই নিউজটি শেয়ার করুন। 

বাংলা বাংলা English English